মিস্টার বিন: কথা না বলেও বিশ্বকে হাসানো সেই মহান জাদুকরের গল্প
হাসি মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ ঔষধ। আর এই ঔষধটি গত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীকে খাইয়ে যাচ্ছেন একজন মানুষ, যাকে আমরা সবাই 'মিস্টার বিন' নামেই চিনি। আমাদের আজকের পোস্টটি সেই কিংবদন্তি কমেডিয়ান রোয়ান অ্যাটকিনসন এবং তার অমর সৃষ্টি মিস্টার বিনকে নিয়ে।
মিস্টার বিন কে?
মিস্টার বিন ব্রিটিশ সিটকমের একটি কালজয়ী চরিত্র। ব্রিটিশ অভিনেতা রোয়ান অ্যাটকিনসন এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন। বিন এমন একজন মানুষ যে তার চারপাশের পৃথিবীর সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অদ্ভুত সব কান্ড করে বসে। তার অদ্ভুত চালচলন, অদ্ভুত সব ফন্দি এবং তার প্রিয় বন্ধু সেই ছোট 'টেডি বিয়ার'—সব মিলিয়ে বিন এক অন্যরকম দুনিয়া তৈরি করেছেন।
কেন মিস্টার বিন এত জনপ্রিয়?
মিস্টার বিনের জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো এর সার্বজনীনতা। মজার ব্যাপার হলো, মিস্টার বিন কোনো কথা বলেন না (মাঝে মাঝে দু-একটি অস্পষ্ট শব্দ ছাড়া)। যেহেতু তার কোনো ভাষা নেই, তাই পৃথিবীর যেকোনো ভাষার মানুষ—সে হোক বাঙালি বা আমেরিকান—সবাই তার কমেডি সমানভাবে উপভোগ করতে পারে। শরীরি ভাষা বা 'বডি ল্যাঙ্গুয়েজ' দিয়ে যে পুরো পৃথিবীকে জয় করা যায়, তার সবথেকে বড় প্রমাণ এই মিস্টার বিন।
রোয়ান অ্যাটকিনসন: পর্দার পেছনের মানুষটি
আমরা যাকে বোকা মিস্টার বিন হিসেবে চিনি, পর্দার পেছনে তিনি কিন্তু অনেক বেশি বুদ্ধিমান। রোয়ান অ্যাটকিনসন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করেছেন। মজার বিষয় হলো, রোয়ানের তোতলামির সমস্যা ছিল। আর এই সমস্যা কাটানোর জন্যই তিনি শরীরি অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কমেডি করার কৌশল আয়ত্ত করেছিলেন। আজ তার সেই সীমাবদ্ধতাই তাকে বিশ্বসেরা কমেডিয়ানে পরিণত করেছে।
মিস্টার বিন সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য
১. নামকরণ: শুরুতে এই চরিত্রের নাম মিস্টার বিন ছিল না। রোয়ান প্রথমে ভেবেছিলেন নাম রাখবেন 'মিস্টার হোয়াইট'। পরে সবজির নামে নাম রাখার কথা মাথায় এলে 'মিস্টার কলিফ্লাওয়ার' নামটিও ভাবা হয়েছিল। অবশেষে 'মিস্টার বিন' নামটি চূড়ান্ত হয়।
২. টেডি বিয়ার: বিনের একমাত্র এবং পরম বন্ধু হলো তার ছোট বাদামি রঙের টেডি বিয়ার। মজার বিষয় হলো, শো-এর স্ক্রিপ্টে টেডি বিয়ারের ভূমিকা মিস্টার বিনের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়!
৩. গাড়ি: বিনের সেই বিখ্যাত সবুজ রঙের ছোট গাড়িটি (Mini 1000) কমেডি ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক একটি গাড়ি।
আমাদের জীবনে মিস্টার বিনের প্রভাব
মিস্টার বিন আমাদের শেখায় যে, একা থাকলেও আনন্দ খুঁজে নেওয়া যায়। তিনি তার ছোট ফ্ল্যাটে একা থাকেন, নিজের সাথে কথা বলেন, নিজের কাজ নিজেই করেন। তার ছোট ছোট সমস্যা সমাধানের বড় বড় সব পাগলামি আমাদের হাসাতে হাসাতে ক্লান্ত করে দেয়। আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে যখন মানুষ দুশ্চিন্তায় ভোগে, তখন মিস্টার বিনের পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও আমাদের সব ক্লান্তি দূর করে দিতে পারে।
উপসংহার
মিস্টার বিন কেবল একটি কমেডি চরিত্র নয়, এটি আমাদের শৈশবের একটি বড় অংশ। আজ রোয়ান অ্যাটকিনসনের বয়স বাড়লেও মিস্টার বিন আমাদের মাঝে চিরকাল তরুণ হয়েই থাকবে। বিনের সেই অদ্ভুত হাসি আর টেডিকে নিয়ে ঘুমানোর দৃশ্যগুলো আমাদের সবসময় মনে করিয়ে দেবে যে—হাসার জন্য বড় কোনো কারণ লাগে না, শুধু মন খুলে হাসতে জানলেই হয়।

Comments
Post a Comment