অমি অ্যান্ড লারা পর্ব ২, লারার রহস্য, সায়েন্স ফিকশন বাংলা গল্প, Ami and Lara Episode 2.
টাইটেল: অচেনা বন্ধু ও আগন্তুক আতঙ্ক: অমি অ্যান্ড লারা সিরিজের রোমাঞ্চকর মোড় (সিজন ১, পর্ব ২)
ভূমিকা:
বিগত পর্বের সেই ভয়াবহ ড্রোন আক্রমণের পর ঢাকার আকাশ এখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। সাধারণ কিশোর অমি এখন আর সাধারণ নেই; তার শরীরে মিশে গেছে প্রজেক্ট ফিনিক্সের অভাবনীয় প্রযুক্তি। কিন্তু শক্তি যত বাড়ে, দায়িত্ব এবং বিপদ তার চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ে। অমি অ্যান্ড লারা সিরিজের এই দ্বিতীয় পর্বে আমরা প্রবেশ করছি এক গভীর রহস্যের জালে, যেখানে বন্ধু আর শত্রুর মধ্যকার সীমানাটা ক্রমশ আবছা হয়ে আসছে।
প্রথম যুদ্ধের পর: ধ্বংসস্তূপের মাঝে নতুন সত্য
পুরান ঢাকার এক পরিত্যক্ত গুদামে অমি আর লারা আশ্রয় নিয়েছে। অমির শরীর তখনো ন্যানো-স্যুটের নীল আভায় কাঁপছে। স্যুটটি খুলে ফেলার পর অমি লক্ষ্য করল তার হাতে থাকা সেই পুরনো ঘড়িটি থেকে এক ধরণের ডিজিটাল পালস নির্গত হচ্ছে। লারা দ্রুত তার ল্যাপটপ বের করে ডাটাগুলো স্ক্যান করতে শুরু করল।
অমি লারার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, "তুমি কে লারা? আর তুমি আমার বাবার প্রজেক্টের ব্যাপারে এত কিছু জানোই বা কী করে?" লারা তার কাজ থামিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানাল, তার বাবাও অমির বাবার সাথে একই গবেষণাগারে কাজ করতেন। কিন্তু একটি অন্ধকার শক্তি—যাদের আমরা 'ক্রোনোস' নামে চিনি—তাদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।
ক্রোনোস এবং ডিজিটাল মেইনফ্রেমের ষড়যন্ত্র
গুগল ম্যাপে এখন ঢাকার মানচিত্র বদলে গেছে। ক্রোনোস বাহিনী শহরের মূল ইলেকট্রিক গ্রিড এবং ইন্টারনেট সার্ভারগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে। লারা ডিকোড করে দেখাল যে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো ঢাকার সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং নাসা-র সাথে সংযুক্ত ডাটা সেন্টার।
"তারা যদি এই ডাটাগুলো পেয়ে যায় অমি, তবে তারা পুরো দেশের মানুষের পরিচয় এবং সম্পদ তাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে," লারা সতর্ক করল। অমির ভেতরে এক ধরণের জেদ কাজ করতে শুরু করল। সে বুঝতে পারল, তার বাবার রেখে যাওয়া এই 'স্টার-কোর' প্রযুক্তিটি আসলে পৃথিবীর শেষ রক্ষা কবজ।
অচেনা আগন্তুকের হামলা
আলোচনা চলাকালীন হঠাৎ গুদামের ছাদ ভেঙে নিচে নামল এক বিশাল যান্ত্রিক হাত। এটি কোনো ড্রোন নয়, এটি ক্রোনোসের উন্নত 'গ্ল্যাডিয়টর রোবট'। লারা দ্রুত অমিকে স্যুটটি সক্রিয় করতে বলল। অমি তার ঘড়ির মাঝখানে চাপ দিতেই ন্যানো-পার্টিকেলগুলো তার শরীর ঢেকে ফেলল। কিন্তু এবার স্যুটে একটি নতুন মোড দেখা গেল— 'এনার্জি শিল্ড'।
অমি সেই শিল্ড ব্যবহার করে রোবটের প্রথম আক্রমণ প্রতিহত করল। লারা কিবোর্ডে দ্রুত টাইপ করে রোবটের অপারেটিং সিস্টেম হ্যাক করার চেষ্টা করতে লাগল। অমি বুঝতে পারল, তাকে কেবল শক্তি দিয়ে নয়, বুদ্ধি দিয়ে লড়তে হবে। সে রোবটের সেন্সরগুলো লক্ষ্য করে স্যুটের থেকে একটি লেজার বিম ছুড়ে মারল। লহমায় রোবটটি অকেজো হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
লারার গোপন ল্যাবরেটরি
গুদামটি আর নিরাপদ নয় বুঝে লারা অমিকে নিয়ে গেল তার গোপন আস্তানায়। এটি ঢাকার মাটির নিচে তৈরি এক অত্যাধুনিক ল্যাব। সেখানে অমি দেখল বিশাল সব হলোগ্রাফিক স্ক্রিন এবং ড্রোন তৈরির যন্ত্রপাতি। অমি অবাক হয়ে দেখল, লারা একা হাতেই এমন সব প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশের কাছেও নেই।
লারা একটি বিশেষ ডাটা চিপ অমির স্যুটের কলারের কাছে সেট করে দিল। "এটি তোমাকে সরাসরি আমার ল্যাবের সাথে সংযুক্ত রাখবে। আমি এখন থেকে তোমার চোখের সামনে সব ডাইরেকশন পাঠিয়ে দেব," লারা হাসিমুখে বলল। অমি বুঝতে পারল, সে আর একা নয়।
উপসংহার: সামনে আরও বড় ঝড়
রাতের ঢাকা আজ শান্ত মনে হলেও বাতাসের গন্ধে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা ছড়িয়ে আছে। অমি তার আস্তানার ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। লারা তাকে জানিয়েছে যে, ক্রোনোস তাদের বড় বড় জেনারেলদের পাঠাতে শুরু করেছে। অমি কি পারবে তার এই নতুন শক্তি দিয়ে ঢাকাকে রক্ষা করতে? আর লারার আসল পরিচয় কি সত্যিই কেবল একজন বিজ্ঞানীর মেয়ে, নাকি আরও কিছু লুকিয়ে আছে তার আড়ালে?
পরবর্তী পর্বে আমরা দেখব অমির প্রথম বড় মিশন— 'অপারেশন ডাটা শিল্ড'।

Comments
Post a Comment